দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মরক্কো থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশ করেছেন। এ সময় সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টায় অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেউতার প্রশাসনিক প্রধান। পরিস্থিতিকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত অবৈধ অভিবাসীদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
অভিবাসীদের এই ঢল শুরু হয় স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের পর। ওই রায়ে বলা হয়, সেউতা বা মেলিলায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।
সেউতার প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস বলেন, পরিস্থিতি এখন ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ এই আগমনের সংখ্যা শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। সেউতার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৮৩ হাজার ৬০০।
তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের হিসাবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন। বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫০ জন করে সীমান্ত ত্যাগ করছেন বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেউতা ও মেলিলায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে স্পেন। একই সময়ে মেলিলাতেও রাতারাতি আরও ৩০০ থেকে ৪০০ অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার সেউতা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, মরক্কো সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে অপরাধী চক্র ভুল তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে সীমান্তে আসতে উৎসাহিত করেছে। তবে মরক্কো সরকার অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।
সেউতা ও মেলিলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা মহাদেশে একমাত্র স্থলসীমান্ত। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুটি অঞ্চল ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এবার সীমান্ত অতিক্রমকারীদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ পুরুষ হলেও নারী, শিশু ও নবজাতকও রয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, সেউতায় প্রবেশকারীদের অন্তত সাত হাজারই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
স্থানীয় এক অভিবাসী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এটা মোটেও ভালো কিছু নয়। মানুষ এখানে মারা যাচ্ছে। যারা এখনো আসেননি, তাদের অনুরোধ করব—কেউ আসবেন না।’
সেউতার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
এদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এ ঘটনাকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি স্পেনের সঙ্গে শেনজেন অঞ্চলের অবাধ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিতের বিষয়টি বিবেচনার কথা জানান। যদিও এতে মূলত দুই দেশের মধ্যে বিমানযাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত তল্লাশি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেয়েন সেউতার পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে দ্রুত সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মরক্কোর প্রতি অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালির বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালেও কূটনৈতিক বিরোধের জেরে প্রায় আট হাজার অভিবাসী মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। তবে এবারের ঘটনা সেই সংকটকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/